ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মামুন নামের এক কলেজছাত্রকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে এক যুবক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মো. মামুন (২৫) নামের এক কলেজছাত্রের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ঘটনায় শামিম নামের এক যুবক রড দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা যায়, বড়মানিকা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে পাশের কুড়ালিয়া গ্রামের মো. শামিম দীর্ঘ দিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি ভোলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুনের আত্মীয় হওয়ায়, মামুন তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। সে সময় পারিবারিক মধ্যস্থতায় ঘটনার সমাধান হলেও শামিম বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এই ক্ষোভ থেকেই গত বুধবার সন্ধ্যায় মামুনকে একা পেয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় শামিম ও তার সহযোগীরা তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া
আশঙ্কাজনক অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা দোষী শামিম ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
হামলাকারী শামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
নারীর প্রতি উত্যক্তকরণ এবং তার প্রতিবাদকারীকে নির্মমভাবে পেটানোর এ ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

