মনোহরগঞ্জে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও সন্তান নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। সাথে নিয়ে গেছেন নিজের শিশু কন্যাকেও; ৫ দিন পার হলেও হদিস পায়নি পুলিশ।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তার ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তান, সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মানরা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী প্রবাসী বর্তমানে বিদেশের মাটিতে স্ত্রী, সন্তান ও সহায়-সম্বল হারিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

পরকীয়ার জেরে সংসার ভাঙন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানরা গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মাহবুবুর রহমান প্রায় ৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে ফারজানা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুকাল পর জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। মাহবুবের অভিযোগ, তিনি বিদেশে থাকার সুযোগে একই গ্রামের জনৈক সাফিন (২৫) নামক এক যুবকের সাথে ফারজানা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি ফারজানার পরিবারকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট

গত ৭ মে ফারজানা তার স্বামীর পাঠানো নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং এনজিও থেকে ঋণের জন্য তোলা ৫ লাখ টাকাসহ প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হন। সাথে তিনি নিজের শিশু কন্যা মায়মুনা আক্তার মারিয়াকেও নিয়ে গেছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান অলংকার হারিয়ে প্রবাসী মাহবুবুর রহমান এখন বাকরুদ্ধ।

আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বাবা আবুল বাশার বাদী হয়ে পুত্রবধূ ফারজানা ও তার প্রেমিক সাফিনের বিরুদ্ধে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ পলাতকদের কোনো সন্ধান পায়নি। প্রবাসীর পরিবার দ্রুত শিশু সন্তানকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতকদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *