নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে চালানো এক বিশেষ অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘সফল’ বললেও ইরান দাবি করছে এই অভিযান পুরোপুরি ‘ব্যর্থ’।
নিখোঁজ এক মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে আমেরিকার চালানো একটি বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মিশনকে ইতিহাসের অন্যতম সাহসী ও সফল দাবি করলেও তেহরান একে ‘ব্যর্থ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) উভয় পক্ষ থেকেই এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যগুলো সামনে আসে।
ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি
রবিবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে এবং সেটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের প্রত্যাখ্যান ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ট্রাম্পের এই ঘোষণার কিছু সময় পরেই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর ‘খাতামুল আম্বিয়া’-এর পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়। দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার ওই বিশেষ উদ্ধার অভিযানটি সফল হয়নি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের বাহিনীর কড়া প্রতিরোধের মুখে মার্কিন সেনারা পাইলটকে উদ্ধার করতে না পেরেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের সামরিক ব্যর্থতা ও পরাজয় ঢাকতেই এই সফলতার মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
সম্মুখ লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছিল যে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করলেও ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে গেছে। তেহরানের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, মার্কিন পাইলটকে নিয়ে এই নাটকীয়তা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল মাত্র।
বর্তমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে নিখোঁজ পাইলটের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতময় হয়ে উঠেছে।

