মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে যেকোনো উস্কানির ‘চূড়ান্ত জবাব’ দিতে তেহরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ ইরানি কমান্ডার।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের উস্কানি বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দিতে ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামীকাল বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। তবে শান্তি ফেরার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে দুই দেশই তাদের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘খাতাম আল-অম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান সামরিক দিক থেকে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণে তাদের সেনাবাহিনী সক্ষমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পারস্য উপসাগরে কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইরানের অবস্থান দুর্বল করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
সামরিক প্রস্তুতির হুঁশিয়ারি
আলী আবদুল্লাহি মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ইরান বর্তমানে কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করে পাল্টা আঘাত হানার জন্য তাদের নৌ ও বিমানবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময়।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে দুই দেশ কি পুনরায় আলোচনায় বসবে নাকি সংঘাতের পথে হাঁটবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

