অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আবারও আলোচনায় বসতে রাজি ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানছি এই নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় সমঝোতায় আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তবে এই আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের সামনে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানছি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়, তবেই কেবল পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সম্ভব।
শর্ত সাপেক্ষে নমনীয় ইরান
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে তেহরানের নমনীয় অবস্থানের কথা জানান। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরান এখন একটি ‘উইন-উইন’ বা উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। রাভানছি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থের আইনি নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে প্রস্তুত।
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
ইরানের এই প্রস্তাবের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে কেবল ইরানের অর্থনীতিই সচল হবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এটি ইরানের জন্য একটি টেকসই এবং সম্মানজনক চুক্তি অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নতুন মোড়?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার এই সময়ে ইরানের এই প্রস্তাবকে বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করেছিল। তবে তেহরানের এই নতুন বার্তা আলোচনার একটি নতুন জানালা খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় হলো, ওয়াশিংটন ইরানের এই আলোচনার আহ্বানে কেমন সাড়া দেয়। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

