যুদ্ধবিরতির মাঝেও যুদ্ধের প্রস্তুতি: আইআরজিসি-র কড়া বার্তা

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে যেকোনো আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধবিরতি চললেও তারা যেকোনো ধরনের ‘হুমকি বা নতুন আগ্রাসনের’ জবাব দিতে যুদ্ধের সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

আইআরজিসি-র ধ্বংসাত্মক আঘাতের হুঁশিয়ারি

বিবৃতিতে গার্ড বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। তারা বলেছে, শত্রুর কল্পনার বাইরে গিয়ে তাদের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতার ওপর ‘ধ্বংসাত্মক আঘাত’ হানতে আইআরজিসি প্রস্তুত। যেকোনো উস্কানির বিপরীতে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক। তেহরানের দাবি, তারা কেবল আত্মরক্ষায় নয়, বরং নিশ্চিত পাল্টা হামলার সামর্থ্য নিয়েই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রতারণা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, পরাজিত কোনো পক্ষ কখনোই অন্যের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। মোহাম্মদী মনে করেন, ট্রাম্প আসলে হঠাৎ কোনো বড় হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় কেনার কৌশল হিসেবে এই মেয়াদ বাড়ানোর নাটক করছেন।

অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখা এক ধরনের অলিখিত বোমাবর্ষণের শামিল। মাহদি মোহাম্মদী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবরোধ যদি অব্যাহত থাকে তবে তার জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দেওয়া হবে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি হামলা করবে না, তবে ইরানের সমুদ্রপথগুলোতে অবরোধ ও নজরদারি কঠোর থাকবে।

আপাতদৃষ্টিতে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার মানসিক যুদ্ধ এখন চরম পর্যায়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌ অবরোধ এবং আইআরজিসি-র যুদ্ধের হুঙ্কার—উভয় পক্ষই একটি সরু সুতোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *