চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে চমক দিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১৯ বছর পর বার্সার ঘরের মাঠে জয়ের দেখা পেলেন ডিয়েগো সিমিওনে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বড় ধাক্কা খেয়েছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার শরলথের গোলে দীর্ঘ ১৯ বছরের জয়খরা কাটিয়েছে রোহিব্ল্যাঙ্কোরা।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো লাল কার্ড
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলছিল হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনা। মার্কাস রাশফোর্ড ও জোয়াও কানসেলো বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা গোলে রূপান্তর করতে পারেননি। তবে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির এক ভুলে। আতলেতিকোর হুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করায় ভিএআর পরীক্ষার পর রেফারি কুবারসিকে লাল কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার ঠিক পরেই ফ্রি-কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করে আতলেতিকোকে এগিয়ে নেন হুলিয়ান আলভারেজ।
আতলেতিকোর আধিপত্য ও দ্বিতীয় গোল
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এক জন কম নিয়ে খেলা বার্সেলোনা লড়াই করার চেষ্টা করলেও আতলেতিকোর জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে আলেকজান্ডার শরলথের গোলে পরাজয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের। গ্রিজম্যান ও রুজেরির দারুণ এক আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে জেরার্ড মার্টিনকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান শরলথ।
ক্যাম্প ন্যুতে ঐতিহাসিক রেকর্ড
আতলেতিকোর এই জয়টি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বার্সেলোনার মাঠে জয়ের মুখ দেখল তারা। কোচ হিসেবে ডিয়েগো সিমিওনেও তাঁর ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ক্যাম্প ন্যুতে জয়ের স্বাদ পেলেন। এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে সংস্কারের পর পুনরায় চালু হওয়া ক্যাম্প ন্যুতে এটিই বার্সেলোনার প্রথম হার।
সেমিফাইনালে যেতে হলে দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে অসম্ভব এক কামব্যাক করতে হবে। আগামী ম্যাচে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে ফ্লিকের শিষ্যদের। অন্যথায় ২০১৫ সালের পর আরও একবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।

