ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধের অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শক্ত নিশ্চয়তা সাপেক্ষে ২০ বছরের স্থগিতাদেশেই রাজি ওয়াশিংটন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পূর্ব অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তবে ওয়াশিংটন তা মেনে নিতে প্রস্তুত। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে আজ শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত ও ট্রাম্পের শর্ত
এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হচ্ছিল যে, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। তবে এবার ট্রাম্প ২০ বছরের সময়সীমার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই স্থগিতাদেশ “সত্যিকারের ২০ বছর” হতে হবে এবং এর পেছনে তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর ও নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে এই চুক্তির রূপরেখা কেমন হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পটভূমি ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। তবে গত মাস থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর টিকে আছে। এর আগে এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ৫ বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল, যার বিপরীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। এবার ট্রাম্প নিজে সেই শর্তের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করলেন।
চীন সফর ও হরমুজ প্রণালি সংকট
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত হয়েছে যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে অবিলম্বে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং তাদের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
ইসরাইলের অনড় অবস্থান
ট্রাম্পের এই নতুন ফর্মুলার বিষয়ে তেল আবিব এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি ধ্বংস বা অন্য দেশে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। ফলে ট্রাম্পের এই ২০ বছরের প্রস্তাব ইসরাইল কতটুকু মেনে নেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওবামা আমলের ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছিলেন। এখন নতুন করে ২০ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কতটুকু কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

