ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা থেকে সরে আসতে আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই দাবিগুলো উঠে আসে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তান সরকারের ম্যাচ বয়কটের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। এই বৈঠকে বয়কট এড়াতে আইসিসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছে পিসিবি।
পিসিবির তিন প্রধান শর্ত
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান লড়াই নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তিনটি দাবি পেশ করেছে। প্রথমত, আইসিসির লভ্যাংশ বা বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ থাকা ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালু করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর তৃতীয় শর্তটি হলো খেলোয়াড়দের আচরণগত সৌজন্য। পিসিবি চায় মাঠে এবং মাঠের বাইরে ভারতীয় খেলোয়াড়রা যেন পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে সৌজন্যমূলক করমর্দন ও আচরণ বজায় রাখেন, যা গত এশিয়া কাপে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ কেন্দ্রিক অন্য দাবির গুঞ্জন
অন্যদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ভিন্ন এক তথ্য দিচ্ছে। তাদের মতে, পিসিবির দেওয়া শর্তগুলো মূলত বাংলাদেশকেন্দ্রিক। এর মধ্যে রয়েছে—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় বাংলাদেশকে বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা, অংশগ্রহণ ফি প্রদান এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আইসিসির বড় কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়া। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারকে ছাড়াই এবার বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ায় পাকিস্তান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১৫ ফেব্রুয়ারি
বৈঠকে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান জানবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জানা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে কি না।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। আইসিসি কোনোভাবেই এই ম্যাচটি হারাতে চায় না। এখন পাকিস্তান সরকারের সবুজ সংকেত এবং আইসিসির পক্ষ থেকে শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতির ওপরই ঝুলে আছে ম্যাচের ভবিষ্যৎ।

