৫২ দিনে ৪৪,৫০০ কোটি টাকা ঋণ: সংসদে রুমিন ও অর্থমন্ত্রীর বিতর্ক

নতুন সরকারের ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের তথ্য নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে ব্যাখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন সরকারের ঋণ গ্রহণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫২ দিনের মধ্যে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ব্যাংক ঋণে সরকারের ‘অতি নির্ভরশীলতা’

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকার এখন অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ে বিশাল অঙ্কের ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে আনতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, তা জানতে চান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা: ‘এটি আগের সরকারের দায়’

রুমিন ফারহানার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এই ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কর্মফল নয়। তিনি বলেন, “এই ঋণ মূলত ‘ক্যারিওভার’ হচ্ছে। অর্থাৎ, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের কিস্তি ও দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতা এটি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে এই ঋণের বোঝা তৈরি করেনি, বরং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দায় মেটাচ্ছে।”

আগামী বাজেটে ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “বিএনপির অর্থনৈতিক পলিসি অনুযায়ী স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর বাস্তব প্রতিফলন দেশবাসী আগামী বাজেটে দেখতে পাবেন।”

সংসদে এই বিতর্ক সরকারের আসন্ন বাজেট পরিকল্পনার ওপর বাড়তি নজরদারির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনা সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *