ইরানে আবারও বড় হামলার পরিকল্পনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থার জেরে ইরানে ফের বড় ধরনের হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেহরানের অনড় অবস্থানে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা।

ইরানের সাথে চলমান শান্তি আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় আবারও দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত তেহরানের অনড় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

কেন ফের হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প?

সূত্রগুলো বলছে, ইরান যেভাবে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে চরম হতাশ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান চান তিনি। ট্রাম্পের ধারণা, ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে তারা পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। এই অচলাবস্থা কাটাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগকেই অন্যতম পথ হিসেবে দেখছেন তিনি।

পেন্টাগনের দ্বিধাবিভক্তি ও কূটনৈতিক সংকট

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের একটি অংশ মনে করছে, নতুন করে হামলা চালালে ইরান দুর্বল হবে এবং তারা শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হবে। তবে কর্মকর্তাদের আরেকটি পক্ষ এখনো কূটনীতিকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে। এদিকে, শান্তি আলোচনার প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান যে জবাব দিয়েছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছে, ইরান আদতে সংঘাত নিরসন চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সংশয়

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এই সংকটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের কঠোর বার্তার প্রকৃত গুরুত্ব পাকিস্তান সঠিকভাবে ইরানের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পাকিস্তান কেবল ইতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরছে, যার সাথে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছে যে এটিই কূটনীতির শেষ সুযোগ। তবে তেহরান আপাতত এসবে কর্ণপাত করছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। ফলে যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *