জঙ্গল সলিমপুরে ৪ হাজার যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে বিশাল অভিযান শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধমুক্ত করতে সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) ভোর থেকে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর এক বিশাল অভিযান। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি-র প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এলাকাটিতে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ পাহাড় দখল এবং চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

ড্রোন ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত যৌথ বাহিনী

সোমবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ড্রোনের মাধ্যমে অপরাধীদের সম্ভাব্য আস্তানাগুলো চিহ্নিত করা হয়। এরপর একে একে এলাকায় প্রবেশ করে সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাজোয়া যান এবং ডগ স্কোয়াড। র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, র‍্যাব-৭, ১১ ও ১৫-সহ চট্টগ্রাম মেট্রো ও রেঞ্জ পুলিশের বিশাল এই বহর পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

অপরাধের অভয়ারণ্য ও সন্ত্রাসী বাহিনীর দৌরাত্ম্য

জঙ্গল সলিমপুর মূলত পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং চাঁদাবাজির এক বিশাল আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘রুকন বাহিনী’ ও ‘ইয়াসিন বাহিনী’র মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীকে ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন র‍্যাব সদস্যরা, যেখানে একজন র‍্যাব কর্মকর্তা নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এরপর থেকেই এই দুর্গম এলাকাকে অপরাধীদের হাত থেকে মুক্ত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

চার দশকের অবৈধ বসতি ও বর্তমান চিত্র

গত প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে জঙ্গল সলিমপুরে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সন্ত্রাসীরা এখানে নিরাপদ আস্তানা গেড়েছে এবং সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল।

যৌথ বাহিনীর এই মেগা অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *