ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ ও চাপের মাধ্যমে ইরানকে নত করতে বা নতুন সংঘাতের অজুহাত খুঁজছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় বসবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবরোধ ও রাজনৈতিক চাপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে আসলে ‘আত্মসমর্পণের মঞ্চ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান যেকোনো ধরনের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্পের কৌশলের কড়া সমালোচনা
স্পিকার গালিবাফ মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পিতভাবে অবরোধ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পথ বেছে নিয়েছেন। তার মতে, এই কৌশল ব্যবহারের পেছনে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য দুটি—হয় ইরানকে চূড়ান্তভাবে নতজানু করা, নয়তো নতুন কোনো সামরিক সংঘাত শুরু করার জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই বৈরী আচরণ আলোচনার স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করছে।
হুমকির মুখে আলোচনায় নারাজ তেহরান
ইরানের এই শীর্ষ নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির ছায়ায় বসে ইরান আলোচনার টেবিলে বসবে না। গালিবাফ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের সামরিক বাহিনী রণক্ষেত্রে নতুন কৌশল ও চাল দেখানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের রাজনীতি ইরানকে কাবু করতে পারবে না বরং ইরান নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতেই এখন বেশি মনোযোগী।
রণক্ষেত্রে প্রস্তুতির ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অবস্থানের বিপরীতে ইরান নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে। গালিবাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি দাবি করলে যেকোনো সময় তেহরান কড়া জবাব দিতে সক্ষম। তার মতে, ট্রাম্পের অবরোধের রাজনীতি আসলে কূটনীতির পথ বন্ধ করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। একদিকে অর্থনৈতিক অবরোধের চাপ, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পর্ক এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

