আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পার হলো রুশ ধনকুবেরের বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘নর্ড’। বর্তমানে ওমানের মাসকাট বন্দরে নোঙর করে আছে ৬ হাজার কোটি টাকার এই জাহাজ।
বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে রুশ বিলাসতরী ‘নর্ড’। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এই প্রমোদতরি গত রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে ওমানের মাসকাট বন্দরে নোঙর করেছে। রুশ ধনকুবের আলেক্সি মোর্দাসোভের মালিকানাধীন এই ইয়টটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
নিশ্ছিদ্র পাহারার জলপথে বিলাসতরী
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের এই প্রমোদতরি গত ২৪ এপ্রিল দুবাই মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। যেখানে এই পথে দৈনিক গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলত, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের অনুমতি পাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কড়া পাহারার এই জলপথ দিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিলাসতরী কীভাবে যাওয়ার অনুমতি পেল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মালিকানা ও নিষেধাজ্ঞার লড়াই
বিশাল এই প্রমোদতরির মালিক আলেক্সি মোর্দাসোভ একজন বড় মাপের স্টিল ব্যবসায়ী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, সরাসরি তার নামে না হলেও ২০২৫ সালের রেকর্ড বলছে, ইয়টটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি রুশ ফার্মের নামে নিবন্ধিত। মূলত এই কৌশলেই আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলেছে বিলাসতরীটি।
রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে শক্তিশালী হতে থাকা সম্পর্কের কারণেই এই চলাচল সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধির চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে মস্কো ও তেহরানের যোগাযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তারই প্রতিফলন হিসেবে এই বিলাসতরীটি কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুইমিং পুল, হেলিপ্যাড এবং ব্যক্তিগত সাবমেরিন সমৃদ্ধ এই ‘নর্ড’ কেবল বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে বন্ধু দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

