তেহরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন আর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতায় চরম উত্তেজনা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা
শনিবার দুপুর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ পাঁচটি বড় শহরে একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যৌথ হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ। তেহরানে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া পারচিন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থা
হামলার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন। হামলার মুখে ইরানের পুরো আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কাঁপছে ইসরায়েল: পাল্টা আঘাত শুরু
তেহরানে হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজতে শুরু করে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী বর্তমানে এই হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মধ্যপ্রাচ্যে রেড অ্যালার্ট
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই হামলার জন্য ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাতার ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস থেকে নাগরিকদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থান কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

