মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাদারীপুর জেলা শহরের আমিরাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে একই পরিবারের শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার (১৭ মে, ২০২৬) মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার চিত্ময় দাস, তাঁর স্ত্রী ইশা দাস এবং তাঁদের মাত্র ৮ মাস বয়সী এক সন্তান।
বেড়াতে এসে মধ্যরাতে লাশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাসায় গত তিন বছর ধরে ভাড়া থাকছেন মিষ্টি বাড়ৈ নামের এক নারী। মিষ্টি বাড়ৈর স্বামী যতীন বাড়ৈ একজন ইতালি প্রবাসী। গত রবিবার বিকেলে মিষ্টি বাড়ৈর বাসায় তাঁর চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে সপরিবারে বেড়াতে আসেন চিত্ময় দাস। কিন্তু একই দিন মধ্যরাতে ওই বাসা থেকে চিত্ময়, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
হত্যা নাকি আত্মহত্যা? সন্দেহের তালিকায় মিষ্টি বাড়ৈ
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সময় পাশের কক্ষেই একা ছিলেন মিষ্টি বাড়ৈ। মাঝরাতে ঘরের ভেতর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মিষ্টি বাড়ৈ নিজেই পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে বিছানায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিষ্টি বাড়ৈকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

