মার্কিন নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করে গত ১০ দিনে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারির মধ্যেও জাহাজ চলাচলের এই তথ্য চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কঠোর অবরোধ জারি থাকা সত্ত্বেও তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। গত দশ দিনে দেশটি প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল বিদেশের বাজারে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ভোরটেক্সা’-র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা আমেরিকার আরোপিত অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ব্যর্থ সংলাপ ও অবরোধের কঠোরতা
সম্প্রতি ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আয়োজিত শান্তি সংলাপ ব্যর্থ হয়। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেন্টকোম ইরানের বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা।
পাহারার ফাঁক গলিয়ে জাহাজ চলাচল
ভোরটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল থেকে সোমবার পর্যন্ত গত দশ দিনে মোট ৩৪টি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বা ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আসা-যাওয়া করেছে। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ১৯টি জাহাজ বের হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের দাবি, এই ১৯টি যাত্রার মধ্যে অন্তত ৬টি জাহাজ সরাসরি তেলবোঝাই ছিল। আর এই চালানগুলোর মাধ্যমেই প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।
ক্রেতাদের প্রতি মার্কিন হুঁশিয়ারি
ইরানের এই তেলের ক্রেতা কারা বা কোন দেশ এই ঝুঁকি নিয়ে তেল কিনছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অবরোধ চলাকালীন ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
মার্কিন কড়াকড়ি ও রণতরীর পাহারার মধ্যেও ইরানের এই তেল রপ্তানি তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাব ও বর্তমান অবরোধ নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।

