মোহাম্মদপুর-আদাবরে পুলিশের ৪ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযান: আটক ১০০

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবরে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী বিরোধী ৪ ঘণ্টার এক সাঁড়াশি অভিযানে ১০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আসন্ন রমজান ও ঈদ সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় পরিচালিত চার ঘণ্টার এক বিশেষ অভিযানে অন্তত ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। মূলত কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান।

অভিযানের বিস্তারিত ও আটক

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে গত রাত ১০টায় মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকায় এই তল্লাশি শুরু হয়। রাত ২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে সন্দেহভাজন ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার এবং দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

রমজান ও ঈদে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা

আসন্ন পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে রোজা পালন এবং উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেজন্য অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে শপিং মল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান অগ্রাধিকার।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

অভিযান শেষে ডিসি ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে জানান, এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজরা যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জনস্বার্থে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় পুলিশের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের এই বড় অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। আটককৃতদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *