যুদ্ধবিরতিতে ‘জয়’ ট্রাম্পের, তবে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে

ইরানের দেওয়া ১০টি শর্ত মেনে নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এই সমঝোতাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের জয় বললেও এর দীর্ঘমেয়াদী মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব করা ১০টি শর্তের সবকয়টি মেনে নিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে নিজের ব্যক্তিগত ও সামরিক ‘জয়’ হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছু মূল্য চোকাতে হতে পারে, যা দেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের কারণ হতে পারে।

ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি ও মাঠের বাস্তবতা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির বিপরীতে অনেক অমিমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থান এখনও অজানা এবং দেশটির বিশাল মিসাইল ভাণ্ডার অক্ষত রয়ে গেছে। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব আগের মতোই অটুট আছে। ফলে ট্রাম্পের এই জয় কতটুকু টেকসই, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ মার্কিন বিশেষজ্ঞরাই।

চুক্তির কঠিন শর্তাবলি

এই সমঝোতায় এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মানা বেশ কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে— অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা। ট্রাম্প সাময়িক স্বস্তির জন্য এসব শর্তে রাজি হলেও, আগামী দুই সপ্তাহের আলোচনায় এগুলো স্থায়ী রূপ দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ও পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে নিজ দেশেই তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং কংগ্রেসম্যান জোয়াকুইন কাস্ট্রো ট্রাম্পকে নেতৃত্বের জন্য অনুপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। শুধু বিরোধী পক্ষই নয়, ট্রাম্পের নিজ দলের (রিপাবলিকান) অনেক সদস্যও তাঁর যুদ্ধংদেহী হুমকির সমালোচনা করেছেন। সিনেটর রন জনসন ও লিসা মুরকাওয়াস্কি সতর্ক করে বলেছেন যে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হতে পারে না।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। তবে ট্রাম্পের এই ‘চড়া মূল্যের শান্তি’ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সমাধান আনবে নাকি নতুন কোনো সংঘাতের বীজ বপন করল, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *