যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন এরদোয়ান। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করতে ‘উস্কানি ও অন্তর্ঘাতমূলক’ কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। ৪১ দিনের চরম উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের পর এই সমঝোতাকে রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
শান্তির সুযোগ নস্যাৎ করার আশঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, শান্তি স্থাপনের এই ‘সুযোগের জানালা’ কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না। এই দুই সপ্তাহের সাময়িক বিরতিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে পৌঁছানোর ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।
ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সংকটের এই সময়ে ইরানের আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে তুরস্ক। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কামাল মেমিসুগলু জানিয়েছেন, ঔষধ ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী বোঝাই তিনটি ট্রাক ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষত নিরাময় এবং চিকিৎসা সংকট মোকাবিলায় এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এরদোয়ানের এই সতর্কতা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তুরস্কের এই মানবিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

