মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার জেরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়। গত ৩ দিনে বাতিল হয়েছে অন্তত ২৫টি ফ্লাইট।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত তিন দিনে আগমন ও বহির্গমন মিলিয়ে মোট ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণেই এই নজিরবিহীন ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
তিন দিনের ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ৬টি, রোববার ১৪টি এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত আরও ৫টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়। এই পরিস্থিতির ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং জরুরি প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ কিছু ফ্লাইটের চলাচল
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মধ্যেও সীমিত পরিসরে কিছু ফ্লাইট চলাচল সচল রয়েছে। ওমানের মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে এবং সোমবার সকালে একটি ফ্লাইট যাত্রী নিয়ে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া শনিবার দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর রোববার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট (BG-135) ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অচলাবস্থা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘর্ষের জেরে শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরণের অস্থিরতা শুরু হয়। ইরান ও ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত ও কাতারও সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই, আবুধাবি ও দোহার বিমানবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা রুটের ফ্লাইটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর এই উত্তেজনা আরও চরম রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

