জাতীয় সংসদের গ্যালারিগুলোতে এখন থেকে শোভা পাবে সাত বীরশ্রেষ্ঠের নাম। স্বাধীনতার অকুতোভয় সন্তানদের সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার বীরত্বগাথা ও ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইতিহাসের সাথে গণতন্ত্রের সেতুবন্ধন
এতদিন জাতীয় সংসদের গ্যালারিগুলোর নাম বিভিন্ন ফুল ও নদীর নামে ছিল। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস স্থায়ীভাবে ঠাঁই পেল। এর মাধ্যমে সংসদ অধিবেশনে আগত দর্শক ও নতুন প্রজন্ম জাতীয় বীরদের ত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করার সুযোগ পাবে।
কোন গ্যালারি কার নামে
নতুন তালিকা অনুযায়ী সংসদের গুরুত্বপূর্ণ গ্যালারিগুলোর নাম এখন থেকে নিম্নরূপ হবে:
- ভিআইপি গ্যালারি-১: বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
- ভিআইপি গ্যালারি-২: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।
- গ্যালারি-৩: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।
- গ্যালারি-৪: বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান।
- গ্যালারি-৫: বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
- গ্যালারি-৬: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।
- গ্যালারি-৭: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।
উল্লেখ্য যে, গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
জাতীয় বীরদের নামে সংসদীয় গ্যালারির এই নামকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংসদীয় কাঠামোর অভ্যন্তরে দেশপ্রেমের চেতনা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

