প্রতিদিন মাত্র ১০০ বার একটি নির্দিষ্ট জিকির পাঠে মিলবে বিশাল প্রতিদান। মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ অনুযায়ী এই আমলটি গুনাহ মাফ ও শয়তান থেকে সুরক্ষা দেয়।
মানুষের পার্থিব জীবন নানা দুশ্চিন্তা ও পরীক্ষায় পূর্ণ। এই ব্যস্ত পৃথিবীতে হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পরিশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো জিকির। অনেক ইবাদতের জন্য শারীরিক শক্তি বা সময়ের প্রয়োজন হলেও কিছু বিশেষ জিকির রয়েছে, যা অত্যন্ত অল্প সময়ে পাঠ করে বান্দা পেতে পারেন অগণিত নেকি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। তেমনই এক মহামূল্যবান আমল হলো প্রতিদিন ১০০ বার একটি বিশেষ কালিমা পাঠ করা।
জিকিরটির উচ্চারণ ও অর্থ
পবিত্র হাদিস শরিফে বর্ণিত এই জিকিরটি হলো: উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।’ অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর। আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’
হাদিসের আলোকে এই জিকিরের মর্যাদা
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই জিকিরটির ফজিলত সম্পর্কে যে সুসংবাদ দিয়েছেন, তা একজন মুমিনের হৃদয়কে ঈমানের আলোয় ভরিয়ে দেয়। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই কালিমা পাঠ করবে, তার জন্য বিশেষ চারটি পুরস্কার রয়েছে: ১. দশ দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব: এটি আল্লাহর দরবারে ১০ জন দাস আজাদ করার সমান মর্যাদা বয়ে আনে। ২. শত নেকি লাভ: আমলকারীর আমলনামায় ১০০টি নেকি লেখা হবে। ৩. শত গুনাহ মাফ: তার জীবনের ১০০টি গুনাহ মোচন করা হবে। ৪. শয়তান থেকে সুরক্ষা: সেই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি তার জন্য শয়তানের সব কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি এই আমল করবে, সে ছাড়া আর কেউই এর চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আসতে পারবে না। তাই জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রশান্তি ও রহমত পেতে এই ছোট আমলটি আমরা আমাদের প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।

