শুরুর বিপর্যয় সামলে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি ও লিটন দাসের লড়াকু ব্যাটিংয়ে লড়াকু পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ জিততে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ২৬৬ রান।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। শুরুর দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। সিরিজ জয়ের জন্য কিউইদের টার্গেট এখন ২৬৬ রান।
শান্ত-লিটন জুটিতে চালকের আসনে বাংলাদেশ
পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই প্রথম সারির তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চরম চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের ১৬০ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ জুটি দলের হাল ধরে। শান্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অপরাজিত থেকে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৯ ইনিংস পর ওয়ানডেতে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া লিটন খেলেন ৭৬ রানের আক্রমণাত্মক এক ইনিংস। জেইডেন লেনক্সের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি টাইগারদের বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন।
শেষ দিকের ক্যামিও ও দলীয় সংগ্রহ
শান্ত-লিটন জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইনিংসের শেষভাগে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয়। মিরাজ ১৮ বলে ২২ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরলেও, হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৩৩ রানে (২৯ বল)। তাদের ছোট ছোট অবদানেই বাংলাদেশের স্কোর আড়াইশ ছাড়িয়ে ২৬৫-তে গিয়ে থামে। কিউই বোলারদের মধ্যে লেনক্স গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন।
শান্তর প্রত্যাবর্তন ও লিটনের খরা কাটন
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শান্তর এই সেঞ্চুরিটি ছিল বিশেষ কিছু। ২০২৪ সালে লঙ্কানদের বিপক্ষে এই মাঠেই শেষবার শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। আজ আবার সেই পরিচিত ভেন্যুতেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই টপ-অর্ডার ব্যাটার। অন্যদিকে, টানা ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে লিটন দাসের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি টাইগার শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।
নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ২৬৫ রানের এই পুঁজি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এখন বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংই পারে টাইগারদের হাতে সিরিজের ট্রফি তুলে দিতে।

