জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা হিমালয়ের সঙ্গে পিলারের তুলনা করার মতো।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জাতীয় সংসদে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাকে এক পাল্লায় মাপা মানে মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা।
হিমালয়ের সাথে পিলারের তুলনা
বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, চব্বিশের আগস্টে কোনো ‘বিপ্লব’ হয়নি, বরং এটি ছিল একটি ‘গণঅভ্যুত্থান’। তিনি সেই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও একে মুক্তিযুদ্ধের সমতুল্য মানতে নারাজ। তার মতে, “হিমালয় পর্বতের সাথে একটি পিলারের যে ব্যবধান, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনাও ঠিক তেমন।” এই তুলনা করাকে তিনি সরাসরি ‘অন্যায়’ হিসেবে আখ্যা দেন।
শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম
নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ‘অভিশপ্ত দল’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি দীর্ঘ ১০ বছর নিরন্তর লড়াই করেছেন। পরিবারের মায়া ত্যাগ করে জেল-জুলুম উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত রাজপথে থাকার সংকল্পের কথা তিনি সংসদে পুনরায় ব্যক্ত করেন।
সংসদে তীব্র উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা
বক্তৃতার এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করেন ফজলুর রহমান। জামায়াত আমিরের পারিবারিক পরিচয় ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধার পরিবার জামায়াতের আদর্শ গ্রহণ করতে পারে না। তাকে ‘ফজু পাগলা’ বলে উপহাস করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা জাতি মেনে নেবে না। তার এই বক্তব্যে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ফজলুর রহমানের এই বক্তব্যে সংসদ অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী পক্ষ থেকে দফায় দফায় আপত্তি জানানো হলেও তিনি নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন এবং জানান যে, মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার চেয়ে মরে যাওয়াও ভালো ছিল।

