যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহু প্রশাসন এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুগান্তকারী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত রোববার (১৪ জুন) এই চুক্তির ঘোষণা আসার পর থেকেই ইসরাইলে তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত থাকলেও ইসরাইল তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইসরাইলের তীব্র ক্ষোভ ও প্রত্যাখ্যান
চুক্তি ঘোষণার পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতার শর্ত মানতে তার দেশ বাধ্য নয়। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ঘোষণা করেছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় তাদের দখলকৃত এলাকাগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান ও সামরিক তৎপরতা অনির্দিষ্টকাল অব্যাহত থাকবে। এমনকি দখলকৃত অঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের উচ্ছেদ করে সেসব এলাকা ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা
ইসরাইলের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই চুক্তিকে ‘মুক্ত বিশ্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মতো নেতারা সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইসরাইলি গণমাধ্যমে ট্রাম্প ও মার্কিন নেতৃত্বকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চ্যানেল ১৪ নিউজের সাংবাদিক ইনন মাগালের মন্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলকে তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র একা ফেলে দিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও অনিশ্চয়তা
ইসরাইলি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইসরাইল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম’ (আইডিএসএফ) সতর্ক করেছে যে, ইরানের মতো রাষ্ট্রের সঙ্গে করা যেকোনো চুক্তিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলের বিরোধী নেতারাও সরকারের এ ব্যর্থতার সমালোচনা করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের অদূরদর্শী নীতির কারণে ইসরাইল আজ এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ঐতিহাসিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ইসরাইলের অনড় অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টাকে আবারও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

