যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ শীর্ষ উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান স্থবিরতা না কাটলে সংঘাতের পরিধি শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদই প্রধান বাধা
শান্তি আলোচনার মূল অন্তরায় হিসেবে মোহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদকে দায়ী করেছেন। তেহরান নীতিগতভাবে দাবি করছে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে তাদের এই জব্দকৃত অর্থ ছাড় করতে হবে। রেজাইয়ের মতে, এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিশ্বাসের একটি বড় পরীক্ষা। ওয়াশিংটন এই অর্থ ছাড় না করলে ভবিষ্যতে আস্থার জায়গা তৈরি হওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।
যুদ্ধ বিস্তারের হুঁশিয়ারি ও সামরিক সক্ষমতা
মোহসেন রেজাই হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ায়, তবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব এবং যেখানে যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেই আঘাত হানব।” সংঘাতের পরিধি হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর এমনকি ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। এছাড়া পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের বিগত ভূমিকার কারণে কোনো ধরনের নতুন আলোচনায় ইরান যে খুব একটা আশাবাদী নয়, তাও স্পষ্ট করেছেন এই শীর্ষ উপদেষ্টা।
হরমুজ প্রণালী ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। রেজাই জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ইরান ও ওমান যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এই জলপথ ব্যবহারের জন্য তারা একটি ‘রক্ষণাবেক্ষণ ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে। তিনি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে বর্তমানে ইরান সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
একজন সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও নীতিনির্ধারক হিসেবে মোহসেন রেজাইয়ের এই মন্তব্য ইরানের নিরাপত্তা মহলের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই টানাপোড়েন পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

