শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। নির্বাচনে কারচুপি, জাল ভোট প্রদান এবং কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদুর রহমান দাবি করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পরিকল্পিতভাবে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বেশ কয়েকজন জাল ভোটদাতাকে হাতেনাতে ধরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে সোপর্দ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঝগড়াচর কেন্দ্রে একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর আবারও সেখানে একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এজেন্টদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদ
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, কাকিলাকড়া ইউনিয়নের ঘরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইগাতীর আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোটে বাধা দিতে গেলে বিএনপির কর্মীদের হামলায় তাজুল ইসলাম নামে তাদের একজন এজেন্ট গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুরাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট নিজেই ব্যালটে সিল মারছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সবশেষে মো. মাসুদুর রহমান বলেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং প্রকাশ্য অনিয়মের কারণে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদে তিনি এই নির্বাচন বর্জন করছেন। এর আগে তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও এক পোস্টের মাধ্যমে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন।
Full Article:

