দেশে আগামী দুই মাস পেট্রল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জ্বালানি বিভাগ। বর্তমানে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলসহ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত আছে।
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় বার্তা দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, আগামী দুই মাস দেশে পেট্রল ও অকটেনের কোনো ধরনের সংকট হবে না। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বর্তমানে তেলের মজুত পরিস্থিতি ও সরকারি ভর্তুকির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
বর্তমান মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন পেট্রল মজুত আছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিমাণ তেল দিয়ে আগামী দুই মাসের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার বা মজুত করার প্রবণতা থাকলে তা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অবৈধ মজুত বিরোধী অভিযান
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বিপুল ভর্তুকি ও তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা থাকলেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে এপ্রিলে তেলের দাম বাড়ায়নি। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে। যুগ্ম সচিব জানান, এক লিটার ডিজেল বর্তমানে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার প্রকৃত উৎপাদন বা আমদানি মূল্য হওয়া উচিত ১৫৫ টাকা। প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে সরকারকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে।
‘ফুয়েল পাস’ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ঢাকার আসাদ গেট এলাকার সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া অন্তত ৩ মাসের জ্বালানি মজুত করার সক্ষমতা তৈরিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

