প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান: ২০ বছর পর ক্ষমতায় বিএনপি

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। আজ বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শপথ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকেই সংসদ ভবনের আশপাশে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করানোর পর দুজনে করমর্দন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ফরমে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিসভায় নতুনদের জয়জয়কার

এবারের মন্ত্রিসভায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এবার প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। তাঁর অধীনে থাকা মন্ত্রিসভায় এমন অনেক নেতা জায়গা করে নিয়েছেন, যারা এর আগে কখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। এমনকি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন—এমন নজিরও এবার দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও নবীনের সমন্বয়ে একটি গতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

মানিক মিয়া এভিনিউতে জনতার ঢল

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা আজ এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানিক মিয়া এভিনিউসহ সংসদ ভবনের চারপাশের এলাকায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। কেবল দলীয় নেতা-কর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নতুন সরকারকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামীর বার্তা

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলুম-নির্যাতন কাটিয়ে এই বিজয়কে বিএনপির জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রাথমিক বার্তায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক সংস্কারে নতুন এই সরকার কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *