মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই আদেশ দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে মানহানির একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ সম্বোধন ও মানহানি মামলা

গত ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে আমির হামজা মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৪ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন।

১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ও পিবিআই তদন্ত

একই ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আরও একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের দাবি, আমির হামজার বক্তব্য সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান মন্ত্রী টুকুর সামাজিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে বিতর্কিত দাবি

সম্প্রতি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন আমির হামজা। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ডিসি ওই পদে বদলি হয়ে আসার জন্য ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এই আপত্তিকর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, প্রমাণহীন এমন বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতে না পারায় আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।

মুফতি আমির হামজার এসব ধারাবাহিক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আমির হামজার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *