ইরানে হামলা থামাবে না যুক্তরাষ্ট্র: সেন্টকমের কঠোর বার্তা

ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের গতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। সেন্টকম জানিয়েছে, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া অভিযানের গতি কমানোর কোনো চিন্তাভাবনা তাদের নেই। আজ সোমবার (২ মার্চ) আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও হামলার লক্ষ্যমাত্রা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইতিমধ্যে ইরানজুড়ে ১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। মিশৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক মিসাইল সংরক্ষাণাগারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সদর দপ্তর এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি ও পাল্টাপাল্টি আঘাত

হামলা কেবল একপক্ষীয় থাকেনি। ইরানের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরানও দমে না গিয়ে ইসরাইল, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত চালিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছু মহলে উদ্বেগ থাকলেও সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ভোটেল দাবি করেছেন, এই অভিযান দীর্ঘকাল চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত রসদ ও প্রস্তুতি মার্কিন বাহিনীর রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সতর্কতা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা

এই সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এফবিআই কাউন্টার-টেররিজম টিমগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিদেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি কেবল ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকলেও ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ এই সংঘাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *