ঈদে কতদিন ছুটি? ১০ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ যেভাবে পাবেন

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে সরকারি ক্যালেন্ডারে ৫ দিনের ছুটি থাকলেও, কৌশলী হলে চাকরিজীবীরা কাটাতে পারবেন টানা ১০ দিনের বিশাল ছুটি। জেনে নিন বিস্তারিত।

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি নিয়ে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে পারে মুসলমানদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সরকারি তালিকা অনুযায়ী এবার ঈদের ছুটি ৫ দিন নির্ধারিত থাকলেও শবে কদর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সমন্বয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে ১০ দিনের লম্বা ছুটির এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঈদের ছুটির সরকারি হিসাব

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত মোট ৫ দিন সরকারি ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে। যদি ২১ মার্চ ঈদ অনুষ্ঠিত হয়, তবে এই সূচি অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হবে। এর আগে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদর উপলক্ষে রয়েছে সাধারণ ছুটি।

যেভাবে ১০ দিনের ছুটি সম্ভব

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবারের ক্যালেন্ডার বেশ ইতিবাচক। কেউ যদি ১৮ মার্চ (বুধবার) একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিতে পারেন, তবে তিনি শবে কদরের ছুটিসহ ঈদের ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি শুরু করতে পারবেন। অন্যদিকে, ঈদের ৫ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি। এর পরদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে মাঝখানের মাত্র ২ দিন ছুটি নিলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের দীর্ঘ অবকাশ কাটানোর সুযোগ থাকছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ছুটি

চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির হিসাব কিছুটা জটিল হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রটি ভিন্ন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজানের শুরু থেকেই দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৩০ মার্চ থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে গত কয়েক বছর ধরেই সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি বাড়িয়ে আসছে। এবারও সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীদের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে পূর্বের ন্যায় লম্বা ছুটির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *