পদ্মার দুই দানবীয় কাতল বিক্রি হলো ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায়!

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪২ কেজিরও বেশি ওজনের দুটি কাতল মাছ। ঢাকার এক শিল্পপতি বিপুল দামে মাছ দুটি কিনে নিয়েছেন।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির দুটি কাতল মাছ। শনিবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে মাছ দুটি আড়তে আনা হলে তা দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরবর্তীতে ঢাকার এক শিল্পপতি ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায় মাছ দুটি কিনে নিয়েছেন।

জেলের জালে রূপালি চমক

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার জেলে বাবু সরদার এবং পাবনার ঢালারচরের জামাল প্রামাণিক পদ্মা ও যমুনার মোহনায় জাল ফেলেন। ভোরের দিকে জাল তোলার সময় তারা বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। জাল টেনে তোলার পর দেখা যায়, বাবু সরদারের জালে ১৭ কেজি এবং জামাল প্রামাণিকের জালে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের দুটি বিশাল কাতল ধরা পড়েছে।

নিলাম ও আড়তের হাঁকডাক

শনিবার সকালে দৌলতদিয়া একতা মৎস্য আড়তে মাছ দুটি বিক্রির জন্য আনা হলে উন্মুক্ত নিলাম শুরু হয়। ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সাড়ে ২৫ কেজির মাছটি ২১০০ টাকা কেজি দরে এবং ১৭ কেজির মাছটি ১৭০০ টাকা কেজি দরে মোট ৮২ হাজার ৪৫০ টাকায় কিনে নেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকার ক্রেতা লাভ

মাছটি কেনার পর ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা তার ফেসবুক প্রোফাইলে মাছ দুটির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সেটি দেখে ঢাকার গুলশান এলাকার এক শিল্পপতি মাছ দুটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত কেজিপ্রতি আরও ১০০ টাকা লাভে মোট ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায় তিনি মাছ দুটি কিনে নেন। বিশেষ ব্যবস্থায় মাছগুলো ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলেদের সংকট ও সম্ভাবনা

জেলে বাবু সরদার জানান, নদীতে বর্তমানে বড় মাছের দেখা মিললেও জ্বালানি তেলের সংকটে তারা নিয়মিত ট্রলার চালাতে পারছেন না। ঠিকমতো জাল ফেলতে পারলে আরও বেশি মাছ ধরা সম্ভব হতো। এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট জানান, এ এলাকায় অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পারলে বড় মাছের বংশবিস্তার ও উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পদ্মার সুস্বাদু বড় মাছের কদর সবসময়ই বেশি। তবে জেলেদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *