তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইলেন বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। নিজেকেই তিনি এখনো বোর্ডের বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আইসিসির সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে এক বিবৃতিতে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, মনগড়া ও আইনি ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী কিছু সাবেক ক্রিকেটার বোর্ডকে অস্থিতিশীল করতে ‘নির্বাচন ফিক্সিং’-এর কাল্পনিক গল্প সাজাচ্ছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই প্রতিবেদনের কোনো আইনি ভিত্তি তাঁর কাছে নেই এবং তিনি নিজেকেই বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে গণ্য করছেন।
আইসিসির হস্তক্ষেপ ও স্বায়ত্তশাসন
বিবৃতিতে বুলবুল উল্লেখ করেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি অধিকার এনএসসির নেই। তিনি মনে করেন, সরকারের এই পদক্ষেপ আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সংকট নিরসনে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বিসিবির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কর্তাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটি যখন দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বুলবুলের এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।

