রাজধানী ঢাকা থেকে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলিসহ কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।
রাজধানীতে কঙ্কাল চোর চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। সোমবার এক বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ হাড়সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি জানায়, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কবরস্থান থেকে মরদেহ চুরি করে কঙ্কাল সংগ্রহ করত।
কঙ্কাল চোর চক্রের ভয়ঙ্কর কারবার
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম এবং মো. ফয়সাল আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত। চক্রটি মূলত ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে গোপনে মরদেহ তুলে কঙ্কাল সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে সেই কঙ্কালগুলো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় রাজধানীর উত্তরাস্থ সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রি করা হতো।
হোস্টেলে কেমিক্যাল দিয়ে প্রসেসিং ও অনলাইন বিক্রি
এই ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো কঙ্কাল প্রসেসিংয়ের স্থান। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলে তার নিজ রুমে কেমিক্যাল দিয়ে এসব কঙ্কাল পরিষ্কার ও প্রসেসিং করত। এরপর ফেসবুকের বিভিন্ন প্রাইভেট গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় সেগুলো বিক্রি করা হতো। মূলত গবেষণার কাজে ব্যবহারের নাম করে এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হতো।
যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান
তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে মনিপুরীপাড়া এলাকা থেকে প্রথমে সৌমিককে একটি কঙ্কালসহ গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে কালাম ও জসিমকে আরও দুটি কঙ্কালসহ ধরা হয়। সবশেষে উত্তরার ডেন্টাল কলেজ হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ৪৪টি কঙ্কালসহ ফয়সালকে গ্রেফতার করা হলে উদ্ধারকৃত খুলির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭টিতে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবুল কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং আসাদুলের বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং কোন ফেসবুক গ্রুপগুলো এই কারবারে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

