ইরানকে বিভক্ত করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘নীল নকশা’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানি মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে খণ্ডিত করে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিশাল জ্বালানি তেলের ভাণ্ডার লুট করার ষড়যন্ত্র করছে। সোমবার (৯ মার্চ, ২০২৬) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন ও সম্পদ দখলের নীল নকশা
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় মার্কিন তৎপরতার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আমেরিকার এই পরিকল্পনার পেছনের আসল উদ্দেশ্য এখন বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা এবং অবৈধভাবে দেশটির অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে ওয়াশিংটনের একটি সুপরিকল্পিত ‘নীল নকশা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মানসিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
বাঘাই আরও মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল অর্থনৈতিক লাভের জন্যই নয়, বরং ইরানি জনগণের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এই সংঘাত উসকে দিচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কিংবা সম্পদ চুরির উদ্যোগ ইরান কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় তেহরান বিন্দুমাত্র আপস করবে না বলেও তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই কড়া প্রতিক্রিয়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবর্তে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

