রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার অনুমতি মিলেছে। বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও মেগা প্রকল্প ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ অবশেষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি বা ‘ফুয়েল লোডিং’-এর জন্য গত বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার নতুন আশা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও পুতিনের উপস্থিতি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, চলতি এপ্রিল মাসের শেষ দিকেই প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পরীক্ষামূলক উৎপাদন বনাম বাণিজ্যিক সরবরাহ
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা চলতি বছরের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বললেও বিশেষজ্ঞরা কিছুটা সতর্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামের মতে, জ্বালানি প্রবেশ করানোর পর অন্তত ৬ থেকে ১২ মাস বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। এই পাইলট অপারেশনের সময় ধাপে ধাপে গ্রিডে কিছু বিদ্যুৎ যাবে, তবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে সময় লাগবে। একবার চালু হলে এটি বিরতিহীনভাবে ১৮ মাস বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
সঞ্চালন লাইনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা
বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বহনের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB)। বর্তমানে রূপপুর-বাঘাবাড়ি, রূপপুর-বগুড়া এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ রুটে চারটি সার্কিট প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনেই এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বড় নির্ভরতার নাম। যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং কারিগরি ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে বড় স্বস্তি ফিরবে।

