হরমুজ প্রণালির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিল ইরান

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। এখন থেকে এই জলপথে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশটির অনুমতি লাগবে।

ভূকৌশলগত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরান। আজ সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘোষণা দেয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যেকোনো ধরনের নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং আইআরজিসির সঙ্গে পূর্ব অনুমতি ও সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কঠোর নজরদারি ও নতুন নিয়ম

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হরমুজ দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘রেড বিচ’সহ সংলগ্ন পুরো এলাকায় ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালিটি এখন সম্পূর্ণরূপে তাদের নিবিড় সামরিক নজরদারিতে রয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় শত্রুভাবাপন্ন বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোনো সামরিক জাহাজ বা নৌযানকে এই প্রণালি দিয়ে একেবারেই চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে ছাড় ও বর্তমান পরিস্থিতি

সামরিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সাধারণ পণ্যবাহী নৌযানগুলো আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। জানা গেছে, গত দুই-তিন দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। তবে আইআরজিসির এই নতুন কঠোর অবস্থানের পর, গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রণালি দিয়ে অন্য কোনো দেশের নতুন কোনো জাহাজ যাতায়াতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *