ঈদে টানা ৭ দিনের ছুটি: যারা পাবেন না এই বিশেষ সুবিধা

১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য এই টানা ছুটি কার্যকর হবে না।

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের একটি দীর্ঘ ছুটি পেতে যাচ্ছেন। গত রোববার (৮ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জনস্বার্থে এবং জরুরি সেবা সচল রাখার লক্ষ্যে বেশ কিছু খাতকে এই ছুটির আওতাভুক্ত করা হয়নি।

জরুরি সেবা ও পরিষেবা খাত

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সব ধরনের প্রতিষ্ঠান এই ছুটির সুবিধা পাবে না। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও যথারীতি সচল থাকবে।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা

চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। একই সাথে ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন।

ব্যাংক, আদালত ও শিল্প-কারখানা

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং ১৮ মার্চ নতুন ঘোষিত নির্বাহী আদেশের ছুটির পর ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটি কার্যকর হবে। যদিও অধিকাংশের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর, তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের ঈদ যাত্রা ও উদযাপন নিরাপদ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *