বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করছে বিএনপি।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত ও মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া
বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছি এবং আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি।” তার নেতৃত্বে দেশ এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে বলে দলটির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষ ঘোষণা: গাড়ি ও প্লট বর্জনের সিদ্ধান্ত
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল জানান, জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারিভাবে দেওয়া ‘শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) গাড়ি’ এবং কোনো ‘প্লট’ গ্রহণ করবেন না। বিলাসবহুল সুবিধা ত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় শাসক ও বিএনপির চতুর্থবার ক্ষমতা
আজ মঙ্গলবার বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই শপথের মাধ্যমে তারেক রহমানের হাত ধরে জিয়া পরিবারের তৃতীয় কোনো সদস্য রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে আসছেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। বিএনপি সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর দলটি পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও দলীয় অবস্থান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৩টি আসন। মহাজোটের বাইরে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
তারেক রহমানের সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়া এবং একই সাথে সংসদ সদস্যদের বিলাসিতা ত্যাগের ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আজ বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো জাতি।

